![]()


মৌলভীবাজার সংবাদদাতা ::
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী নাফিজা জান্নাত আনজুমকে ধর্ষণের পর হত্যা করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এই নির্মম ঘটনার প্রতিবাদে এবং গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত জুনেল মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার মৌলভীবাজারে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব চত্বরে শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটিসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন হাজারো জনতা। বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটির সভাপতি এম মুহিবুর রহমান মুহিব। সঞ্চালনায় ছিলেন সাংবাদিক ইমাদ উদ দীন ও মো. আবু সামাদ সুজেল।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জজ কোর্টের পিপি ড. আব্দুল মতিন, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস. এম. উমেদ আলী, কুলাউড়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ, পৌরসভা জামায়াতের আমীর প্রভাষক মাওলানা তাজুল ইসলাম, এপিপি নিয়ামুল ইসলাম, নিহত আনজুমের পিতা আব্দুল খালিক, ভাই আফিফ ইসলাম রাদিন, স্পন্দন মৌলভীবাজারের সভাপতি ইহাম মোজাহিদ, মাহমুদ খান আকতার, ইউপি সদস্য লুৎফুর রহমান ও ছয়ফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবুল কালাম বাচ্চু এবং ছাত্রনেতা কাজী মুনজুর আহমদ প্রমুখ।
সমাবেশের আগে নিহত আনজুমের গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ বাসযোগে শহরে এসে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। শহরের চাঁদনীঘাট, চৌমুহনা, প্রেসক্লাব মোড় ও আদালত প্রাঙ্গণ এলাকাজুড়ে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে মৌলভীবাজার।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন সিংগুর গ্রামে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয় নাফিজা জান্নাত আনজুম। নিখোঁজের দুই দিন পর ১৪ জুন বিকেলে তার বাড়ির পাশের ছড়ার পাশে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। ঘটনার পরপরই পুলিশ পাশের বাড়ির জুনেল মিয়াকে গ্রেফতার করে। তদন্তে উঠে আসে, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তারই হাত রয়েছে।
আনজুম হত্যার বিচারে দ্রুত ট্রাইবুনাল গঠন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও বিক্ষোভকারীরা।